পাহাড়ি বাঁশবনের তিতির

পাহাড়ি বাঁশবনের তিতির  (Bambusicola fytchii) বাম্বুসিকোলা (Bambusicola) গণের এক প্রজাতির ছোট তিতির। এরা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব  এশিয়ার স্থানীয় পাখি। আই ইউ সি এন এই প্রজাতিটিকে Least Concern বা আশঙ্কাহীন বলে ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, চীন, লাওস, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের পাহাড়ি বাঁশবনের তিতিরের প্রধান আবাসস্থল।এসব অঞ্চলের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের পাশে ঘাসবন ও ছোট ঝোপঝাড়বহুল জঙ্গল এদের পছন্দের আবাস।

পাহাড়ি বাঁশবনের তিতিরের মোট দু’টি উপপ্রজাতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।এরা হচ্ছে-

  • B. f. fytchii (Anderson, 1871): এর মূল বাসস্থান দক্ষিণ চীন (সিচুয়ান ও হাইনান প্রদেশ), উত্তর ভিয়েতনাম, উত্তর-পশ্চিম থাইল্যান্ড ও পূর্ব মিয়ানমার
  • B. f. hopkinsoni (Godwin Austen, 1874): এর মূল আবাসস্থল পূর্ব বাংলাদেশ (বিশেষতগারো পাহাড়), পূর্ব ও উত্তর মিয়ানমার এবং পূর্ব ভারতের আসাম,ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচল প্রদেশ।

পাহাড়ি বাঁশবনের তিতিরের দেহ ছোট মুরগির আকারের। লেজ লম্বাটে। রক্তিম মাথায় সাদা ভ্রু ও কালো চোখ-ডোরা দৃশ্যমান। চোখ ডোরাকে ঘিরে হালকা সাদা রেখা থাকে। চোখের সামনের দিক ও থুতনি সাদাটে। পিঠ, ডানা ও লেজের গোড়ার পালক বাদামী-ধূসর। পার্শ্বদেশে কালো কালো ছোপ ছোপ থাকে। গলা, বুক ও লেজের ডগা লালচে বাদামী। দেহের নিম্নভাগ সাদা, তাতে প্রচুর কালো ছোপ। দেহে প্রচুর লালচে আভা। পা ধূসর, ঠোঁট সীসা বর্ণের। চোখের মণি কালো। এদের দৈর্ঘ্য কমবেশি ২৭ সেন্টিমিটার।

সাধারণত এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। বীজ, তৃণ, পোকামাকড়, ঘাস ইত্যাদি বাঁশবনের তিতিরের প্রধান খাদ্য। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ তিতিরের ডাকাডাকি বেড়ে যায়।

ব্যাপকহারে আবাসন ধ্বংস ও বনাঞ্চল কেটে চাষাবাদের ফলে পাহাড়ি বাঁশবনের তিতিরের অস্তিত্ব সর্বত্রই হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া মাংসের জন্য শিকারও এদের অস্তিত্ব-ঝুঁকির অন্যতম কারণ।

তথ্যসুত্র ও ছবিঃ উইকিপিডিয়া