বন মোরগ বা বন মুরগি

বন মোরগ

বন মোরগ বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দা। সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি, শালবনে প্রায় শেষ, চিরসবুজ বনে কিছু দেখা যায়। ধরে নেয়া হয় পৃথিবীর সব মোরগ-মুরগি আবির্ভূত হয়েছে এই প্রজাতির কিছু কিছু নমুনার গৃহপালনের মাধ্যমে, তাতে লেগেছে প্রায় আড়াই হাজার বছর।

বন মোরগ ও মুরগি

বন মোরগ খুব সুন্দর ঝালরাবৃত লালছে, সোনালি ও কালো পালক জড়িত পিঠ ও ডানা; কপোল থেকে পালকহীন মাংসল মণি বা কোম্ব, ঠোঁটের নিচে ও কানের সামনে থেকে বের হয় দুটি লাল লতিকা বা পর্দা। পালকহীন চোখের চারদিকে লালচে চামড়া; নিচের দিক কালচে; প্রলম্বিত লেজের পালক নিচ দিকে বাঁকানো। বন মুরগি সোনালি আভাযুক্ত বাদামি তার সাথে সামান্য গাঢ় দাগ, মণি, লতিকা এবং চোখের কোল তেমন দর্শনীয় নয়। অনেক ছোট ও লেজে বাহারি পালক নেই। দৈর্ঘ্য ৬৫-৭৫ সে. মি., মোরগ ৪২-৪৬ সে. মি.

আচরনঃ লাল বনমোরগ-মুরগী একাকী, জোড়ায় বা ছোট দলে ঘুরে বেড়ায়। মাটি থেকে কুড়িয়ে বিভিন্ন শস্যদানা, ঘাসের গোড়া, কচিপাতা, কেঁচো, কীটপতঙ্গ, ফল এসব খায়। খুব ভোরে ও সন্ধ্যার আগে আগে বনের পাশের খোলা জায়গায় খাবার খেতে আসে। শীতের সময় কুয়াশা থাকা অবস্থায় খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। বনের কোনো গাছতলায় পাকা ফল ঝরে পড়া শুরু করলে বনমোরগ-বনমুরগী প্রতিদিন সকাল-বিকাল সেই গাছতলায় আসে। আবার বনের বড় গাছে উঠেও এদের ফল খেতে দেখা গেছে। রাত কাটায় উঁচু গাছের ডালে বা বাঁশঝাড়ে। সামান্য শব্দে ভীত হয়ে উড়ে গিয়ে বসবে গাছের মগডালে। পালানোর সময় পোষা মুরগির মতোই কক্ কক্ করে ডাকে।

লাল বনমোরগ বিশেষভাবে একটি আঞ্চলিক পাখি, অর্থাৎ এরা নিজেদের নির্ধারিত সীমায় বসবাস করে, অন্যের অনুপ্রবেশ মোটেও বরদাশত করতে পারে না। প্রজননকালের শুরুতে এ আচরণ অধিকহারে দেখা যায়। এসময় দলপতি বা শক্তিমান মোরগ তিন থেকে পাঁচটি মুরগী নিয়ে দল গঠন করে ঘুরে বেড়ায়। কমবয়েসী মোরগেরা পৃথকভাবে দুই বা তিন সদস্যের দল গঠন করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, লাল বনমুরগীর বীর্য ফেলে দেবার ক্ষমতা রয়েছে। এরা কেবল দলপতি মোরগের বীর্যই গ্রহণ করে, অন্যসব মোরগের বীর্য ফেলে দেয়।

প্রজননঃ জানুয়ারি থেকে অক্টোবর প্রজননকাল। বনের নির্জন স্থানে পায়ের নখ আঁচড়িয়ে মাটিতে সামান্য গর্ত করে তাতে লাল বনমুরগি শুকনো ঘাস ও কাঠিকুটি বিছিয়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে পাঁচ-ছয়টি; রং হালকা থেকে গাঢ় বাদামি। লাল বনমুরগি শুধু ডিমে তা দেয় ও ছানাদের লালন-পালনে ব্যস্ত থাকে। ডিম ফোটে ২০-২১ দিনে। ফোটার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ছানাগুলো বাসা ছাড়ে ও মায়ের সঙ্গে খাবারের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ উইকিপিডিয়া

আরও দেখুনঃ মান্দারিন হাঁস