করটিয়া জমিদারবাড়ি

রোকেয়া মহল
রোকেয়া মহল

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অনন্য এক জমিদারবাড়ি টাঙ্গাইলের করটিয়া জমিদারবাড়ি। টাঙ্গাইলের বিখ্যাত পন্নী পরিবার এই জমিদারবাড়ি নির্মান করেন। এই বংশেরই আরেকজন জমিদার সাঈদ খান পন্নী ১৬০৮ খ্রিঃ সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে বিখ্যাত আতিয়া মসজিদও নির্মাণ করেন। প্রভাবশালী পন্নী পরিবার এই অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে জমিদারি করেছে। বেড়িয়ে আসুন টাঙ্গাইল করটিয়া জমিদারবাড়ি।

স্থাপত্যশৈলীঃ

বড় বড় গাছপালা ও বাগানে ঘেরা শান্ত এই জমিদার বাড়ীটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীরে ঘেরা। মোগল ও চৈনিক স্থাপত্যের মিশেলে নির্মিত জমিদার বাড়ীটি প্রথম দর্শনেই মন কেড়ে নেয়। জমিদারবাড়ির প্রবেশ পথে খয়েরি রঙের কাচারি ঘরটি এখানকার মূল আকর্ষণ। ১৮৯৯ সালে স্থাপিত চীনা স্থাপত্যের আদলে তৈরি ভবনটিতে লোহা ও কাঠের ব্যবহার লক্ষণীয়। এছাড়া বাড়ির পেছন দিকে ১৯০৬ সালে স্থাপিত রোকেয়া মহল সহ বেশ কিছু স্থাপনা। জমিদারবাড়ি সংলগ্ন মোগল স্থাপত্যের আদলে গড়া মসজিদটি আলাদাভাবে নজর কাড়ে।

কাচারি বাড়ির পেছনের অংশ
কাচারি বাড়ির পেছনের অংশ

কিভাবে যাবেনঃ

করটিয়া জমিদারবাড়ির প্রধান ফটক সবসময় বন্ধ করে রাখা হয়। তবে বিশেষ অনুরোধে ভেতরে প্রবেশ করা যায়। যাওয়ার আগে এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন। তবে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ ও দুই ঈদে জমিদারবাড়ি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী যে কোন বাসে চড়ে করটিয়া বাইপাস নেমে যাবেন। সেখান থেকে অটোরিকশায় মাত্র দশ মিনিটেই চলে যেতে পারবেন করটিয়া জমিদারবাড়ি। ভাড়া ঢাকা থেকে জমিদারবাড়ি পর্যন্ত ১০০-১৫০ টাকা।

এছাড়া ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে টাঙ্গাইলগামী যে কোন ট্রেনে চড়ে করটিয়া স্টেশনে নেমে যাবেন, ভাড়া পড়বে ৯০-৩০০ টাকা।   

জমিদারবাড়ির পুকুর
জমিদারবাড়ির পুকুর

কোথায় থাকবেনঃ

টাঙ্গাইল জেলা বিভিন্ন জমিদারবাড়ি এবং পুরাকীর্তিতে সমৃদ্ধ। তাই আপনি টাঙ্গাইল করটিয়া জমিদারবাড়ি ঘুরতে আসলে অন্তত দু-দিন সময় নিয়ে আসবেন। টাঙ্গাইলে রাত্রিযাপনের জন্য ভালমানের সরকারি বেসরকারি বেশ কিছু রেস্ট হাউজ, বাংলো ও হোটেল রয়েছে। এছাড়াও যমুনা রিসোর্ট, এলেঙ্গা রিসোর্টসহ বেশ কিছু বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। যেখানে রাত যাপনের পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

কি খাবেনঃ

টাঙ্গাইল ঘুরতে গেলে অবশ্যই এখানকার বিখ্যাত পোড়াবাড়ির চমচম খেতে ভুলবেন না। এছাড়া টাঙ্গাইলের দই ও মিষ্টি খেতে ভুলবেন না।  

কী কী দেখবেনঃ

১। করটিয়া জমিদারবাড়ি

২। মহেরা জমিদারবাড়ি

৩। পাকুটিয়া জমিদারবাড়ি

৪। দেলদুয়ার জমিদারবাড়ি ও মসজিদ

৫। আতিয়া মসজিদ

৬। নাগরপুর জমিদারবাড়ি

ছবিঃ জোবায়ের রায়হান

কৃতজ্ঞতাঃ জামান, মমিন ও জীবন।